রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রূপরেখা
১
সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন
বিগত এক দশকের অধিক কালব্যাপী আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করিয়া রাখার ছল উদ্দেশ্যে অনেকগুলো মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কারবিরোধী amendments করিয়াছে। একটি “সংবিধান সংস্কার কমিশন” গঠন করিয়া সকল বিতর্কিত ও অগণতান্ত্রিক সাংবিধানিক সংশোধনী পুনঃপর্যালোচনা করিয়া এবং গণভোট (Referendum) ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন করিয়া জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হইবে।
২
Rainbow Nation ও National Reconciliation Commission
প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে সকল মত ও পথের সমন্বয়ে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিমূলক "Rainbow Nation" প্রতিষ্ঠা করা হইবে। এর জন্য একটি "National Reconciliation Commission" গঠন করা হইবে।
৩
নির্বাচনকালীন দল নিরপেক্ষ সরকার পুনঃপ্রবর্তন
বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এবং স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্থায়ী সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন দল নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হইবে।
৪
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য
সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীসভার নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনয়ন করা হইবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য (Checks and Balances) প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা ও দায়িত্ব সুসমন্বয় করা হইবে।
৫
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সময়সীমা
পরপর দুই টার্মের অতিরিক্ত কেউ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারিবেন না।
৬
উচ্চকক্ষ আইন সভা প্রবর্তন
বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সংসদে “উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা” প্রবর্তন করা হইবে।
৭
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন
আস্থাভোট, অর্থবিল, সংবিধান সংশোধনী বিল ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মতামত প্রদানের সুযোগ নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন বিবেচনা করা হইবে।
৮
নির্বাচন কমিশন ও আইন সংস্কার
স্বাধীন, দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন, সকল কেন্দ্রে পেপার-ব্যালট, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাতিল, RPO, Delimitation Order এবং রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন সংস্কার করা হইবে।
৯
স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন
সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক দলীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠিয়া সকল রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান আইনি সংস্কারের মাধ্যমে পুনর্গঠন করা হইবে।
১০
জুডিশিয়াল কমিশন ও বিচারপতি নিয়োগ আইন
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে জুডিশিয়াল কমিশন গঠন, সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনঃপ্রবর্তন এবং সংবিধান অনুযায়ী বিচারপতি নিয়োগ আইন প্রণয়ন করা হইবে।
১১
প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠন
যোগ্য, অভিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে প্রশাসন সংস্কার ও পুনর্গঠনের জন্য প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠন করা হইবে।
১২
মিডিয়া কমিশন গঠন
গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা এবং সৎ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে মিডিয়া কমিশন গঠন ও কালাকানুন বাতিল করা হইবে।
১৩
দুর্নীতি প্রতিরোধ
দুর্নীতি প্রতিরোধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায়পাল (Ombudsman) নিয়োগ করা হইবে।
১৪
আইনের শাসন ও মানবাধিকার
সর্বস্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মানবিক মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অবসান ঘটানো হইবে।
১৫
অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন
অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠন ও ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূরীকরণ করা হইবে।
১৬
ধর্মীয় স্বাধীনতা
“ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার” নীতি মেনে সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হইবে।
১৭
শিক্ষা নীতি সংস্কার
উচ্চমানের, সমবায়মূলক ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা নীতি প্রণয়ন, সকল বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়কে মানসম্মত করা হইবে।
১৮
স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য
স্বাস্থ্যসেবা, হাসপাতাল ও হাসপাতাল ব্যবস্থার মান উন্নয়ন, জনগণের জন্য সুলভ ও মানসম্মত স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হইবে।
১৯
পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন নীতি
পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমানোর জন্য কার্যকর নীতি গ্রহণ করা হইবে।
২০
নারী ও শিশুর অধিকার
নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষা, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হইবে।
২১
বেকারত্ব কমানো
জাতীয় কর্মসংস্থান নীতি গ্রহণ এবং তরুণদের জন্য চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি করা হইবে।
২২
কৃষি ও কৃষক উন্নয়ন
কৃষি উন্নয়ন, কৃষকদের সুরক্ষা ও প্রযুক্তি সরবরাহ নিশ্চিত করা হইবে।
২৩
উদ্যোগ ও শিল্পায়ন
দেশের উদ্যোগ, শিল্পায়ন ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে কার্যকর নীতি প্রণয়ন করা হইবে।
২৪
পর্যটন ও সংস্কৃতি উন্নয়ন
দেশের পর্যটন, শিল্পকলা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং প্রচার করা হইবে।
২৫
আইটি ও প্রযুক্তি উন্নয়ন
আইটি, রোবোটিক্স, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে নতুন নীতি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা হইবে।
২৬
পরিবহন ও অবকাঠামো উন্নয়ন
রেল, সড়ক, পানি ও বিমান পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হইবে।
২৭
সামরিক ও রক্ষা নীতি
দেশের সামরিক শক্তি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নীতি উন্নত ও আধুনিকীকরণ করা হইবে।
২৮
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
সদ্ভাব, কূটনীতি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন করা হইবে।
২৯
বিপন্ন ও অসহায় জনগণ রক্ষা
দুর্যোগকালীন পরিস্থিতি, সঙ্কট ও দারিদ্র্যরোধে কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হইবে।
৩০
সংবিধান ও আইন প্রয়োগের মান উন্নয়ন
আইন, সংবিধান ও মানবাধিকার সংক্রান্ত নীতি, প্রক্রিয়া ও প্রয়োগের মান উন্নত করা হইবে।
৩১
সমগ্র নীতিমালা ও সংস্কার বাস্তবায়ন
উপরিউক্ত সকল নীতি, সংস্কার ও ব্যবস্থা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হইবে এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে কাজ করা হইবে।
